• জুন ১৬, ২০২১

আযান শ্রবণের সময় কি করা উচিত?

পৃথিবীর সবচেয়ে সুমধুর ধ্বনি হচ্ছে আযান। যা মুসলিম-অমুসলিম-নির্বিশেষে সকল মানুষেরই উপলব্ধি। কারণ এ আযান তো সৃষ্টির প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার আহ্বান। ইসলামে আযানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং আযান সম্পর্কিত কিছু বিধাবিধানও আছে।

আযান শ্রবণের পর শ্রবণকারীর মৌখিকভাবে আযানের উত্তর দেওয়া সুন্নাহ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যখন তোমরা আযান শুনবে তখন এর জবাবে তোমরাও মুআজ্জিনের অনুরূপ বলবে।” (বুখারি)

আযান শ্রবণের পর জবাব দেওয়ার পদ্ধতি
আযানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি হল মুআজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ঐ বাক্যটিই নিজে অনুরূপভাবে বলবে। কিন্তু মুআজ্জিন যখন ‘হাইয়্যা আ’লাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আ’লাল ফালাহ’ বলবে, শ্রোতা তখন ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ’ বলবে। (মুসলিম)

ইসলামী ফিকহের বিশুদ্ধ বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনামতে, ফজরের আযানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’-এর জবাবে শ্রোতা ‘সাদাকতা ও বারারতা’ পড়বে। তবে এর জবাবেও মুআজ্জিনের অনুরূপ ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলা যেতে পারে। কেননা হাদিসে এসেছে, ‘আযানের জবাবে তোমরাও মুআজ্জিনের অনুরূপ বলবে।’

যারা আযান শ্রবণের পর জবাব দেবে না
নামাজ আদায়কারী, পানাহাররত ব্যক্তি, ইস্তিঞ্জায়রত ব্যক্তি, স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত ব্যক্তি ও মহিলারা ঋতুকালীন সময়ে আযানের জবাব দেবে না। তবে অনেক আলেমের মতে, আযানের পরপরই যদি উপরিউক্ত কাজ থেকে কেউ অবসর হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে আযানের জবাব দিয়ে দিতে পারবে। কুরআন তেলাওয়াতকারীর জন্যও তেলাওয়াত সাময়িক বন্ধ রেখে আযানের জবাব দেওয়া উত্তম।

জুম’আর দ্বিতীয় আযানের জবাব
জুম’আর দ্বিতীয় আযানের সময় যখন খতিব সাহেব মিম্বরে উপবিষ্ট থাকেন, তখন ফিকাহবিদদের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী জুম’আর দ্বিতীয় আযানের জবাব মৌখিক না দেওয়াটাই উত্তম। তা সত্ত্বেও কেউ দিতে চাইলে মুখ না নড়িয়ে মনে মনে দিতে পারে।

আযানের সময় দুনিয়াবি কথা ও কাজে লিপ্ত থাকা
আযানের সময় চুপ থাকাটাই সুন্নাহ। একান্ত কোনো প্রয়োজন না হলে সাধারণ দ্বীনি ও দুনিয়াবি কথা বা কাজে লিপ্ত থাকা অনুচিত। বক্তৃতা বা সেমিনার চলাকালে আযান হলে সাময়িক তা স্থগিত রাখবে। কোনো দ্বীনি মাহফিল চলাকালেও তা সাময়িক বন্ধ রেখে সকলে আযানের জবাব দেওয়াটাই উত্তম। মনে রাখতে হবে, আযানের জবাব এমন আলল না যে একজন আযানের জবাব দিলেই সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। কেননা আযানের জবাব দেওয়াটা সুন্নতে কেফায়া নয়; বরং, শ্রবণকারী সকল মুসলমানের জন্যই তা সুন্নাহ।

READ  রাসূলের (সা.) গুরুত্বপূর্ণ ৯ উপদেশে যা আছে

আযানের পর দু’আ
আযানের পর দরুদ শরিফ ও নির্দিষ্ট একটি দু’আ পাঠ করা সুন্নাত। হাদিস শরিফে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আযানের পর ‘আল্লাহুম্মা রব্বা হা জিহিদ দা’আওয়াতিত তাম্মাহ ওয়াস স্বলাতিল ক্ব-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদ্বিলাহ, ওয়াব আসহু মাক্বমাম মাহমুদানিল্লাযি ওয়া আ’ত্তাহ’ এ দু’আটি পাঠ করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত।” (বুখারি)

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,

“তোমরা মুআজ্জিনের অনুরূপ শব্দে আযানের জবাব দাও, অতঃপর দরুদ পাঠ করো, এরপর আমার জন্য বেহেশতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানের জন্য দু’আ করো। আশা করি, আল্লাহ তা’আলা আমাকেই সে স্থান দান করবেন। আর যে ব্যক্তি এ দু’আ করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত।” (মুসলিম)

আযানের পর দরুদ শরিফ পড়ে উপরোক্ত বিশেষ দু’আটি পড়ার কথা হাদিস শরিফে রয়েছে, তবে আযানের পর হাত তুলে দু’আ বা মুনাজাত করা প্রসঙ্গে হাদিসে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।

আযান সম্পর্কিত প্রচলিত কিছু ভুল
-কেউ কেউ আযানে ‘আল্লাহু আকবার’-এর জবাবে ‘জাল্লা জালালুহু’ পড়ে থাকে। এটি সুন্নাহপরিপন্থী।

-অনেকেই আযানের সময় জবাব দিতে গিয়ে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’-এর জবাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলে থাকে। এটিও উচিত নয়। কেননা এ সময় দরুদ পড়ার নির্দেশ নেই। বরং তখনো মুআজ্জিনের অনুরূপ ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলাই সুন্নাত। দরুদ পাঠ করতে হবে মূলত আযান শেষ হওয়ার পর।

-অনেক সমাজে প্রচলিত আছে যে, আযানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলার সময় বৃদ্ধাঙুলে চুমু খেয়ে চোখে মুছতে হয়। কেউ কেউ আবার এর সাথে ‘কুররাতু আইনি’—এ দু’আও যুক্ত করে পড়ে থাকে। অথচ ইসলামী শরিআতে এর কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং, এটি বর্জনীয় একটি আমল।

-অনেক সমাজে এটিও প্রসিদ্ধ আছে যে, আযানের জবাব না দিলে বা আযানের সময় কথা বললে সে বেঈমান হয়ে যায় কিংবা বেঈমান অবস্থায় মারা যাওয়ার আশংকা আছে।এরূপ কোনো বর্ণনাও হাদিসের কিতাবে পাওয়া যায় না। সুতরাং এটিও একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস।

READ  হিংসুকের হিংসাই নিজের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট

admin

Read Previous

বদনজরের বিষয়ে ইসলামের আক্বিদা বা বিশ্বাস

Read Next

মসজিদের অতীত ও বর্তমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *