• জুন ১৭, ২০২১

ঋণ পরিশোধের পর যে দোয়া করতেন বিশ্বনবি

প্রয়োজন পূরণে মানুষ স্বয়ং সম্পূর্ণ নয়। অনেক সময় অন্যের সাহায্য নিতে হয়। এ সাহায্যের মধ্যে ঋণ বা করজ অন্যতম একটি। ঋণ বা করজ গ্রহণ করলে তা যথাসময়ে পরিশোধ করা উত্তম। আর ঋণ পরিশোধের সময় ঋণদাতার জন্য দোয়া করা। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও ঋণদাতার জন্য দোয়া করেছিলেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু রাবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বাবার মাধ্যমে তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছ থেকে চল্লিশ হাজার দিরহাম ঋণ বা করজ নিয়েছিলেন। এরপর তাঁর কাছে মাল (সম্পদ) আসলে তিনি তা আদায় করেন। আর এ বলে দোয়া করেন-
بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ
উচ্চারণ : ‘বারাকাল্লাহু লাকা ফি আহলিকা ওয়া মালিকা’
অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলা তোমার ঘরে এবং মালে (সম্পদে) বরকত দান করুন।’
ঋণ বা কর্জের বিনিময় তো এই যে, লোক কর্জদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এবং তা আদায় করবে।’ (নাসাঈ)

ঋণ গ্রহণে সতর্কতা
ঋণ বা করজ না করাই ভালো। কেননা ঋণ বা করজ করলে তা যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারলে অনেক গোনাহ সংঘটিত হয়। হাদিসের বর্ণনায় তা সুস্পষ্ট। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় ঋণ থেকে দূরে থাকার নসিহত করা হয়েছে। তাহলো-

– হজরত মুহাম্মদ ইবনে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় তিনি আকাশের দিকে তাঁর মাথা উঠান, তারপর তাঁর হাত ললাটের (কপালের) উপর রাখেন এবং বলেন-

সুবহানাল্লাহ‌! কী কঠোরতা অবতীর্ণ হলো! আমরা ভয়ে নির্বাক হয়ে গেলাম। পরদিন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! ওই কঠোরতা কী ছিল, যা অবতীর্ণ হয়েছে?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যাঁর নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহ্‌র রাস্তায় শহিদ হয়, আবার জীবন লাভ করে; আবার শহীদ হয় এবং আবার জীবিত হয়, পরে আবার শহীদ হয়। আর তার উপর ঋণ বা করজ থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে সে ঋণ বা করজ আদায় না হওয়া পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (নাসাঈ)

READ  জান্নাত লাভের দশ আমল

– অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘ঋণ ছাড়া শহীদের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (মুসলিম)
মনে রাখা জরুরি
ঋণ মানুষের জন্য মারাত্মক বোঝা। এ ঋণগ্রস্ততা মানুষের দুশ্চিন্তা, অশান্তি ও অনৈতিকতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহ তাআলার কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়া। বেশি বেশি এ দোয়া করা যে, তিনি যেন ঋণ গ্রহণ ছাড়াই সব প্রয়োজন পূরণ করে দেন। যেভাবে আশ্রয় চাইতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে ঋণ থেকে মুক্ত থাকতে এ দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِالمَحْيَا وَفِتْنَةِ المَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ .
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জালি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহয়ি ওয়া ফিতনাতিল মামাতি; আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল মাছামি ওয়াল মাগরামি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। জীবনের ফেতনা ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গোনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।’

ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়ার অন্যতম কারণ
ঋণ মানুষকে মিথ্যা ও ওয়াদা ভঙ্গের দিকে নিয়ে যায়। হাদিসে এসেছে- এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি ঋণ থেকে এত বেশি আশ্রয় চান কেন! তিনি বললেন, ‘মানুষ যখন ঋণগ্রস্ত হয় তখন কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে।’ (বুখারি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, যথা সম্ভব ঋণ গ্রহণ থেকে মুক্ত থাকা। ঋণ গ্রহণ করলে তা যথাসময়ে পরিশোধ করা। আর ঋণদাতার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা। ঋণ থেকে মুক্তি পেতেও বেশি বেশি দোয়া করা।

READ  জীবজন্তুর প্রতি রসুলুল্লাহর ভালোবাসা

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। ঋণ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আর ঋণ পরিশোধ করার পর ঋণদাতার জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

admin

Read Previous

নিষ্পাপ শিশুর মতো গোনাহমুক্ত হওয়ার উপায়

Read Next

আল্লাহর কাছে গরিব-দুর্বলের মর্যাদা কেমন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *