• সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সম্পত্তি হারাচ্ছেন ১৩ শতাংশ অভিবাসী

অভিবাসীকর্মীদের মধ্যে যারা বিদেশে যাওয়ার জন্য (নিয়োগ ব্যয় মেটানো) ঋণ করেছিলেন, তাদের ১২ দশমিক ৭ শতাংশ ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্পত্তি বা জামানতের মালিকানা হারিয়েছেন।

পুরুষ অভিবাসীকর্মীদের মধ্যে যারা নিয়োগ ব্যয় মেটানোর জন্য ঋণ করেছিলেন তাদের প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মী ঋণ করা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে জামানতের মালিকানা হারিয়েছেন। নারী কর্মীর ক্ষেত্রে জামানতের মালিকানা হারানোর হার তুলনামূলকভাবে বেশি, যা ১৬ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রথমবারের মতো অভিবাসন ব্যয় জরিপ, বাংলাদেশ ২০২০ পরিচালনা করেছে। সম্প্রতি জরিপটি বিবিএস প্রকাশ করেছে, সেখান থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, বন্ধু-আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ করেছেন ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২৮ দশমিক ২, এনজিও থেকে ২০ দশমিক ৫, মহাজনের কাছ থেকে ১৫ দশমিক ৩ এবং জমি বন্ধক ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। পুরুষ কর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮১ দশমিক ৩ এবং নারী কর্মীদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ ঋণ করেছেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে সংগৃহীত অভিবাসীদের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে নমুনা কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে জরিপে। নমুনা উত্তরদাতা ছিল আট হাজার অভিবাসী পরিবার। এতে একটি দু-স্তরবিশিষ্ট স্তরিত গুচ্ছ নমুনায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়ে কম্পিউটারের সাহায্যে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়া শ্রম অভিবাসীর সংখ্যার ভিত্তিতে গন্তব্যের দেশগুলোকে মোট ছয়টি প্রধান দেশ শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধান গন্তব্য দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, ওমান, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে গড় নিয়োগ ব্যয় ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। পুরুষ অভিবাসীকর্মীর গড় নিয়োগ ব্যয় ৪ লাখ ৭১ হাজার এবং নারী অভিবাসী কর্মীদের গড় নিয়োগ ব্যয় মাত্র ১ লাখ টাকা। অর্থাৎ পুরুষ অভিবাসীকর্মীর নিয়োগ ব্যয় নারী অভিবাসী কর্মীর নিয়োগ ব্যয়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি।

READ  পৃথিবীর কাছ দিয়ে যাবে বিশাল গ্রহাণু

অভিবাসীকর্মীদের মাসিক গড় আয় ২৫ হাজার ৬৯৩ টাকা। তার মধ্যে পুরুষ অভিবাসীকর্মীদের মাসিক গড় আয় ২৪ হাজার ৬৭৩ এবং নারী অভিবাসী কর্মীদের ১৮ হাজার ৩৩ টাকা। দক্ষ অভিবাসীকর্মীদের মাসিক গড় আয় সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৪৭৭ টাকা, অদক্ষ কর্মীদের ২৩ হাজার ৬২৯ এবং গৃহকর্মীদের ১৬ হাজার ৬৭৮ টাকা।
সিঙ্গাপুরে অভিবাসী কর্মীদের মাসিক গড় আয় সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ১২৯ টাকা, অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসীদের মাসিক গড় আয় ২৬ হাজার ৬১, মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে ২৩ হাজার ৮৯৬, কাতারের ক্ষেত্রে ২২ হাজার ২৯৩, সৌদি আরবের ক্ষেত্রে ২২ হাজার ১৪০ এবং ওমানে অভিবাসীকর্মীদের মাসিক গড় আয় ১৯ হাজার ১৭৭ টাকা।

অভিবাসীদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারেন না। এ হার সবচেয়ে বেশি সৌদি আরবে। সেখানে সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ অভিবাসীকর্মী কোনো সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারেন না। সবচেয়ে কম সিঙ্গাপুরে, সেখানকার ৭ দশমিক ১ শতাংশ অভিবাসী কর্মী কোনো সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারেন না।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী অভিবাসীকর্মীদের নিয়োগ ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ পুনরুদ্ধার করতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে, তারপর ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের। ৩৫ থেকে ৪৪, ৪৫ থেকে ৫৪ এবং ৫৫ বছর বয়সীদের জাতীয় গড় সময়ের তুলনায় কম সময় লাগে।

জরিপে অভিবাসীকর্মীদের বাংলাদেশে ফেরত আসার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অবকাশ সময় অথবা ছুটিজনিত কারণে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরত এসেছে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ, সৌদি থেকে ২৯ দশমিক ৩, মালয়েশিয়া থেকে ২৭ দশমিক ৫, কাতার থেকে ২১ দশমিক ২ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশ থেকে ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ অভিবাসী কর্মী দেশে ফেরত এসেছেন।

দক্ষ প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৮ শতাংশ পুনরায় একই গন্তব্য দেশে কিংবা অন্য কোনো দেশে অভিবাসীকর্মী হিসেবে ফেরত যেতে ইচ্ছুক। অদক্ষ প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গৃহকর্মী হিসেবে প্রত্যাবর্তনকারীদের মধ্যে ৪২ দশমিক ২ শতাংশ পুনরায় অভিবাসীকর্মী হিসেবে ফেরত যেতে ইচ্ছুক।

READ  সর্বাত্মক লকডাউন আবার বাড়ল

admin

Read Previous

অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড হবে ওসি প্রদীপের

Read Next

আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে নামাজ ও দোয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *