• সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১

করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ গ্রীষ্মে বিশেষ করে এপ্রিল, মে ও জুন মাস ঘিরে ফের করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত বছরের গ্রীষ্মকালের অভিজ্ঞতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে করোনা সংক্রান্ত আলোচনায় এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে আইনের খসড়ারও চূড়ান্ত

অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২১’ এর খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। পাশাপাশি সরকারী ঋণ ব্যবস্থাপনায় পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পাটনারশিপ) এবং সরকার টু সরকারসহ নতুন আর্থিক ব্যবস্থাপনাগুলো সমন্বিত করে ‘সরকারী ঋণ আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে তিনি এসব অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্দেশনার কথা জানান। মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এই গ্রীষ্মে ফের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে। করোনা সংক্রমণ রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এই গ্রীষ্মে ফের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই করোনা সংক্রমণ রোধে তিনটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা অনেক দেশের থেকে ভাল আছি। তার মানে এই না যে আমরা নিরাপদে আছি। আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে এবং করোনা প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, আমরা যে যেখানে থাকি, ভ্যাকসিন নিই বা না নিই, আমরা যেন অবশ্যই তিনটি জিনিস মেনে চলি। আমরা যেন অবশ্যই বাইরে মাস্ক ব্যবহার করি। যথাসম্ভব যাতে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করি। তিন নম্বর হলো- যেখানে জনসমাগম হচ্ছে বিশেষ করে কক্সবাজার বা পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় জনসমাগম হচ্ছে। সেখানে যেন একটা নির্ধারিত সংখ্যায় থাকি। নিজেদের যেন একটা দায়িত্ববোধ থাকে, যেখানে বেশি সংখ্যক লোক আছে সেখানে যেন আমি না যাই। যারা যাবেন তারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এত বেশি লোক হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, কেউ মাস্ক পরছে না। গত বছর মাস্ক না পরার জন্য মিয়ামি বিচে পুলিশ পিটুনি দিয়েছে, জলকামান ব্যবহার করেছে। সেজন্য আমরা প্রত্যেকে যেন একটা দায়িত্ব পালন করি, জনসমাগমে যেন অবস্থা বুঝে অংশ নিই।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে আমাদের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন, আমরা যেন খুব নিরাপদ মনে না করি। গত বছর আমাদের সংক্রমণ সর্বোচ্চ হয়েছিল গ্রীষ্মকালে। এটা নিশ্চিত নয় যে এটা এবার উঠবে না।

READ  করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানাতে রবিবার মাঠে নামছে পুলিশ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমরা মনে করেছিলাম শীতকালে বোধ হয় পিকে (সর্বোচ্চ সংক্রমণ) চলে যাবে, কিন্তু আমাদের পিক ছিল হাই সামার। এপ্রিল, মে ও জুন আমাদের হাই সামার হবে। বিশেষজ্ঞরা যেটা বলেছেন সেই বিষয়ে আমাদের সবাইকে দৃষ্টি দিতে বলা হয়েছে, যেন আমরা যারা যার জায়গা থেকে প্রতিষ্ঠানিক ব্যক্তি বা দলীয় বা পারিবারিক লেভেল থেকে আমরা যাতে সতর্ক থাকি।

মানুষ মাস্ক না পরলে আবার কি সরকার মাঠে নামবে এ বিষয়ে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, আগে দৃশ্যপট দেখি, আমরা তো প্রচার করছিই। বিজ্ঞানীরা তো বলছে না একটি ভ্যাকসিন নিলে আপনি পুরোপুরিভাবে নিরাপদ। ভ্যাকসিন নিলেও মাস্ক পরতে বলা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে করোনা টিকা নেয়ার হার কমেছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতর কাজ করছে। দু-একদিনের মধ্যে তারা এটা নিয়ে কথা বলবে।

যেভাবে মানুষ মাস্ক পরছে না, সেখানে আগের মতো আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা প্রাথমিকভাবে মানুষকে বোঝাতে হবে। এতে অবস্থা কেমন হয়, মে মাসে গিয়ে দেখা যাক। একেবারে গ্রামীণ পর্যায়ে এখন সচেতনতার কাজ চলছে।

যদি আবার সংক্রমণ বাড়ে তবে লকডাউনের মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনের কথা আমরা এখনও ওইভাবে চিন্তা করিনি। যদি বাড়ে এবং প্রয়োজন হয়, তখন সরকার বসে একটা সিদ্ধান্ত নেবে। মানুষের জীবন ও জীবিকা, দুটোকে নিয়ে ভারসাম্য করে পুরো সময় কাজ করে আসছি। সেভাবে যেটা যৌক্তিক আমরা সেটাতেই যাব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা কীভাবে দেয়া হবে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তাদের রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অনেকের এনআইডি নেই। তারা কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি আসলে ওইভাবে সবার নজরে আসেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা এ্যাপ খোলা যায় কি না এ বিষয়ে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, দেখা যাক, অবশ্যই করা যাবে। বিদেশীদের তো এনআইডি নেই, তাদের পাসপোর্ট দিয়ে আমরা করতেছি। ওই রকম একটা কিছু, দেখা যাক কী করে।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন ॥ কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২১’ এর খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগুলোকে অনুসরণ করে নতুন এই আইন করা হচ্ছে। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে দেশে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হবে ৪৬টি, আর বর্তমানে ১০৭টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চালু আছে।

কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য গত বছরের ২১ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত আইনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। খসড়া আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হলো।

READ  যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনার নতুন ধরন শনাক্ত

এই আইনের নীতিগত অনুমোদন দেয়ার দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, কুড়িগ্রাম একসময় মঙ্গাপীড়িত ছিল, সেখানে যদি এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় হয় তবে গবেষণা হবে, খামার হবে। এর মধ্যে দিয়ে তাদের অবস্থার আরও উত্তরণ হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও খামারের মাধ্যমে যে টেকনোলজি উন্নয়ন হবে তা কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাটে বিস্তৃত হলে ওই লোকজন খামারের মাধ্যমে ভুট্টা, শাক-সবজি, মিষ্টি আলু ও মিষ্টি কুমড়া, মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে তাদের অবস্থার আরও উন্নত করতে পারবে।

শিশু হাসপাতালকে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরে সরকারের অনুমোদন ॥ বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন। ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠু পরিচালনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আর্থিক বিষয়াদির জবাবদিহিতা ও উন্নত সেবা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

এটার বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য থাকবে সেটা হলো; শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সেবা নিশ্চিতকরণ ও মানোন্নয়ের উদ্দেশ্যে সংবিধিবদ্ধ একটি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এখানে। রির্সাচসহ সব রকমের লেখাপড়ার বিষয়টি থাকবে এখানে।

শিশুর জন্য পুষ্টিমূলক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণামূলক কার্যক্রম শিশুর শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষাগার ব্যায়ামাগার ও শিশুকর্ণার থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে একটা কমিটি থাকবে, একটা বোর্ড হবে। হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট স্বীকৃত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত করে বিশেষায়িত শিশু চিকিৎসা ও পরে স্নাতকোত্তর বা স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ও মেডিক্যাল টেকনোলজির বিষয়ে স্নাতক ও ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়াও কোন বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন কোর্স পরিচালনা করতে পারবে যেটা আগে ছিল। এছাড়া শিশু স্বাস্থ্য বা মাতৃস্বাস্থ্য এ সংক্রান্ত কোন সার্টিফিকেট বা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ (শিশু) হাসপাতালটাতে আলাদাভাবে সব কার্যক্রম করার জন্য যে তহবিল থাকে, এটা এই বোর্ড পরিচালনা করবে। এছাড়া কিছু আধুনিকায়ন করা হবে বর্তমানে যে কয়টি সিট আছে তার থেকে আরও ১০০টি বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে ১০৩৯টি সিট রয়েছে শিশু হাসপাতালে।

বর্তমান হাসপাতালকে আধুনিক করা হবে নাকি নতুন আরেকটা হাসপাতাল করা হবে জানতে চাইলে সচিব বলেন, শিশু হাসপাতালকেই হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা হলো। আপাতত ১০০টি সিট এখানে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আরও যদি কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে লাগে যেমন কোর্স বাড়ানো, শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি রিসার্চ কার্যক্রম করার জন্য তখন বোর্ড যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে সেভাবেই হবে। এখন তো পরিচালিত হয় ট্রাস্টের মাধ্যমে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন এটা বোর্ড হয়ে যাচ্ছে। বোর্ড ও ইনস্টিটিউট সরকারী হয়ে যাচ্ছে।

READ  সাড়ে ৫ হাজার ডোজ নকল ভ্যাকসিন উদ্ধার

সরকারী ঋণ আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন ॥ সরকারী ঋণ ব্যবস্থাপনায় পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পাটনারশিপ) এবং সরকার টু সরকারসহ নতুন আর্থিক ব্যবস্থাপনাগুলো সমন্বিত করে ‘সরকারী ঋণ আইন, ২০২১’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগে যে ঋণ ব্যবস্থাপনা ছিল, বাজেট কিংবা অর্থনৈতিক পদ্ধতি ছিল সেটা অনেকটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। যেমন এখন পিপিপি বিনিয়োগ পদ্ধতি আরেকটু সংশোধন করা দরকার।

এখন পিপিপি, জিটুজি- সেগুলো আগের আইনে ছিল না। এগুলো নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সবার দায়-দায়িত্ব এবং এগুলোর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, পুনঃবিনিয়োগ পদ্ধতিতে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। এতদিন এগুলো বিধিমালা দিয়ে পরিচালনা করা হতো।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৪৪ সালের ‘পাবলিক ডেবট এ্যাক্ট’ ছিল, সেটা দিয়ে আমরা চলছিলাম। আইনটি সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন ও হালনাগাদ করে সরকারী ঋণ আইনের খসড়া হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার, সরকারী অর্থ, বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯ এর ২১ এর ধারার বিধান সাপেক্ষে বাজেট ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ঘাটতি অর্থায়ন বা অন্য কোন উদ্দেশে সরকারের গ্রহণ করা দেশীয়, বৈদেশিক উৎস থেকে দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় গ্রহণ করা যে সুদ মুনাফা যুক্ত বা সুদ মুনাফা মুক্ত যে কোন ঋণ/বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পারবে।

খসড়া আইনে প্রয়োজনের নিরিখে সরকারী ঋণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া, রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিধান, সরকারী ঋণ অফিসের ভূমিকা নির্দিষ্টকরণ, শরিয়াভিত্তিক সরকারী নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধানাবলী অন্তর্ভুক্তকরণ প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বিলটিতে আইনের প্রাধান্য, পরিদর্শন, সরকারের ঋণ সম্পর্কে জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার সংরক্ষণ ও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত কোন ব্যক্তি আইন ভাঙলে শাস্তি পেতে হবে। এ নিয়ে অভিযোগ আসতে হবে সঞ্চয় পরিদফতর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, বিলটি যদি পাস করা হয় তবে বাংলাদেশ সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর জন্য অধিকতর আধুনিক প্রক্রিয়ায় ঋণ সংগ্রহ, টেকসই ঋণনীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন ঋণ কৌশলপত্র প্রস্তুত, ঋণের ঝুঁকি নিরূপণ, বাজেট প্রস্তুতসহ সরকারের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন দায় হিসাব করার বিষয়টি সহজ হয়ে যাবে।

Pial

Read Previous

এক লাখ শিক্ষক নিয়োগের আয়োজন

Read Next

পৃথিবীর কাছ দিয়ে যাবে বিশাল গ্রহাণু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *