• জুন ১৫, ২০২১

চট্টগ্রামের তিনে তিন

উড়ছে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। টানা তিন জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো তারা। বেক্সিমকো ঢাকা ও জেমকন খুলনার পর সোমবার ‘বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ স্পন্সরড বাই ওয়ালটন’ এ সোমবার তারা হারিয়েছে ফরচুন গ্রুপ বরিশালকে।

প্রথম দুই ম্যাচ চট্টগ্রাম জিতেছিল রান তাড়া করে। এবার তারা আগে ব্যাট করে বরিশালকে ১৫২ রানের লক্ষ্য দেয়। বোলিংয়ের ধারাবাহিকতায় বরিশালকে ১৪১ রানে আটকে রাখে তারা। ১০ রানের জয়ে চট্টগ্রাম নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করলো।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে এবার চট্টগ্রামের উদ্বোধনী জুটি বড় হয়নি। সৌম্য সরকার দারুণ এক চারে রানের খাতা খুললেও আর একটি রান যোগ করে সাজঘরে ফেরেন। লিটন দাশ অবশ্য ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। আজও উইকেটের চারপাশে শট খেলেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। তবে ২৫ বলে ৩৫ রান তোলার পর নিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন বাজে শটে।

অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুন তিনে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ চার ও ১ ছক্কায় বড় কিছু করার আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু সুমন খানের বল ওড়াতে গিয়ে তার ইনিংসও শেষ হয় মাত্র ১৭ রানে। শামসুর রহমান আশার আলো দেখিয়েছিলেন। কামরুল ইসলাম রাব্বির কাছে থামে তারা ২৮ বলে ২৬ রানের ইনিংস।

১৭ ওভার শেষে চট্টগ্রামের রান ছিল ৫ উইকেটে ১০৯। বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবালের মুখে ছিল হাসি। প্রতিপক্ষের রান বড় হচ্ছে না এমন ভাবনা নিশ্চয়ই এসেছিল। কিন্তু শেষ ৩ ওভারে হিসাব পাল্টে দিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সৈকত আলী। সঙ্গে যোগ দিলেন নাহিদুল ইসলাম। এই ব্যাটসম্যান ত্রয়ীর শেষ ঝড়ে ১৮ বলে আসলো ৪২ রান। তাতে বড় সংগ্রহ পায় চট্টগ্রাম। ৭ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রামের রান ১৫১।

আবু জায়েদ রাহীর করা ১৯তম ওভারে তিন ছক্কা হাঁকান সৈকত। মুমিনুল হকের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। শুরুতে এক রানে জীবন পান তাসকিন আহমেদের হাতে। কিন্তু পরবর্তীতে দাপট দেখান। রাহীকে তিনটি ছক্কার দুইটি মারেন মিড উইকেট দিয়ে, একটি লং অন দিয়ে।

READ  ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হলেন মুশফিক

এর আগে মোসাদ্দেক লং অফ দিয়ে রাব্বির একটি শট সীমানার ওপাড়ে আছড়ে ফেলেন। শেষ ওভারে তাসকিনকে পরপর দুই চার হাঁকান নাহিদুল। সৈকত ১১ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। নাহিদুলের ব্যাট থেকে আসে ৮ রান। মোসাদ্দেক ২৪ বলে করেন ২৮।

লক্ষ্য তাড়ায় তামিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের শুরুটা ছিল সাবধানী। তাড়াহুড়ো না করে খেলছিলেন মন্থর গতিতে। অবশ্য চট্টগ্রামের অফস্পিনার নাহিদুল ও সঞ্জিত এবং পেসার শরীফুলের বোলিংও ছিল অসাধারণ।

চতুর্থ ওভারে এ জুটি ভাঙেন শরীফুল। মিরাজ ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৩ রানে। পারভেজ হোসেন ইমন পারেননি দলের প্রত্যাশা মেটাতে। ১৬ বলে করেন ১১ রান। অধিনায়ক তামিম ইনিংস বড় করেছেন মন্থর গতিতে। ১০০ স্ট্রাইক রেটে ৩২ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান। এরপর মোসাদ্দেককে উড়াতে গিয়ে ক্যাচ দেন লং অফে।

বরিশালের জয়ের আশা সেখানেই শেষ হয়। তবুও চেষ্টা চালিয়েছিলেন আফিফ হোসেন। কিন্তু শরীফুলের ইনসুইং ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় আফিফকে। মোস্তাফিজুর তার টানা দুই ওভারে ইরফান শুক্কুর ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে মাঠছাড়া করেন। পরে শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন মাত্র।

২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শরীফুল হয়েছেন ম্যাচসেরা। ২৩ রান দিয়ে সমান উইকেট নেন মোস্তাফিজ।
তিন ম্যাচে দ্বিতীয় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেলো বরিশাল। প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচটি জিতেছিল তারা। কিন্তু জয়ের ধারা ধরে রাখতে ব্যর্থ তারা।

admin

Read Previous

স্কুল থেকে জিয়াউর রহমানের নাম পরিবর্তন করায় বিএনপির বিক্ষোভ

Read Next

বিয়ে করছেন অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *