• জুন ২১, ২০২১

ঠুনকো অজুহাতে রোজা না রাখার সুযোগ নেই

জীবনযাত্রায় নানা অনিয়ম, সীমালঙ্ঘন ও বল্গাহীন চলাফেরায় আপাদমস্তক নিমজ্জিত আমজনতাকে সঠিক পথে শুদ্ধবাদী জীবনধারায় পরিচালনার পথ নির্দেশনা রয়েছে মাহে রমজানের সিয়াম দর্শনে। স্বার্থনিষ্ঠ পঙ্কিল ক্লেদাক্ত মানবিক অবক্ষয়পুষ্ট যে জীবনধারায় মানুষের অভ্যস্ততা- রোজা হচ্ছে এমন ভোগবাদিতার বিরুদ্ধে ফলপ্রসূ প্রতিষেধক। নিজেকে জানা, পরিপূর্ণভাবে চেনা এবং সমাজের দুঃখপীড়িতদের দুঃসহ জীবনধারাকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করা যায় রোজার মাধ্যমে। মুমূর্ষু রোগী ও ভ্রমণে থাকা লোকের পক্ষে রোজার বিধান কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। মুসাফির অবস্থায় রোজা রাখা কষ্টকর হলে না রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে সফর বা ভ্রমণ শেষ করেই পেছনের অনাদায়কৃত

রোজা অবশ্যই কাজা (পুনরায় পূরণ) আদায় করে দিতে হবে। রোজার বিধান মানুষের কল্যাণ এবং আত্মিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্যই ঐশী প্রদত্ত করুণা। মনের পবিত্রতা ও শারীরিক সুস্থতা অটুট রাখতেই রোজা কার্যকরী ব্যবস্থা। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রোজার বহুবিধ উপকারিতা বিশেষত একে স্বাস্থ্যবান্ধব হিসেবেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সর্বসম্মত রায় দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাই অসুস্থতার অজুহাতে রোজা না রাখা এবং রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে লাগাতার রোজা বর্জন অবশ্যই আপত্তিকর। ঐশী বিধানের সরাসরি লঙ্ঘন।

ইরশাদ হয়েছে ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে।’ [আল কুরআন ২ : ১৮৫] এ আয়াতে রোজার সর্বজনীন বিধান ঘোষিত হয়েছে। কোনো কোনো প্রাচীন ধর্মমতে, রোজা এক বিশেষ শ্রেণির জন্য পালনীয় ছিল, কিন্তু ইসলাম রোজাকে সব শ্রেণিবিভক্তি ও সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে একে সর্বজনীন রূপদান করেছে। তাই ইসলামী বিধানে প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য রোজা রাখা ফরজ। প্রাচীন ধর্মসমূহে শ্রেণিবিভক্তি ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশেষ কোনো কারণবশত কাউকে রোজা থেকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো নিয়ম ছিল না। কিন্তু ইসলাম এ ক্ষেত্রে উদারনীতি গ্রহণ করেছে। মাযুর-অক্ষম ব্যক্তিদের রোজার বিষয়টি বিবেচনায় এনে ওজর দূর না হওয়া পর্যন্ত তাদের রোজা না রাখার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে ‘ওয়া মান্ কানা মারিদ্বান আউ আলা সাফারিন ফায়িদ্দাতুম মিন্ আইয়্যামিন উখার’ তোমাদের কেউ পীড়িত থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। [২ : ১৮৫]

READ  যে ১০ আমলে অবিরত বরকত নাজিল হয়

মাহে রমজানে পুণ্য লাভের মুহূর্ত পেয়েও যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা রাখল না তার সম্পর্কে আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষ থেকে সাবধান বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (দ.) বলেছেন, কেউ যদি শরিয়ত অনুমোদিত কোনো ওজর বা অসুস্থতা না থাকা সত্ত্বেও রমজানের কোনো একটি রোজা না রাখে তবে জীবনভর রোজা রাখলেও এর বদলা বা ক্ষতিপূরণ হবে না। (মিশকাত ১ম খণ্ড) মাহে রমজানে পুণ্যকর্মের আমলের ফজিলত যেমন বেশি তেমনি এ মাসে আল্লাহর পালনীয় নির্দেশ লঙ্ঘন করে পাপকর্মে জড়ালে এর শাস্তি বেশ ভয়াবহ। এতে দুনিয়ার জীবনে বিপর্যয় ও আখিরাতের ভয়ঙ্কর বিপদ অনিবার্য। রমজান মাসে রোজা রাখার পর বিনা ওজরে বা ইচ্ছাকৃতভাবে তা ভঙ্গ করলে কাফফারা ওয়াজিব হবে। একটি রোজার কাফফারা হচ্ছে একাধারে ৬০ দিন রোজা রাখা তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা আহার করানো।

শারীরিক স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা এবং জীবনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে রোজার বিধান দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহপাক। আত্মিক উৎকর্ষতা অর্জনেও রোজার বাস্তবভিত্তিক ফলপ্রসূ ভূমিকা রয়েছে। স্বেচ্ছাচারিতা এবং লাগামহীনতার রাশ টানতে রোজা হচ্ছে আল্লাহপাকের কাছ থেকে বিশেষ প্রতিষেধক। যা মানার মধ্যে বহুবিধ কল্যাণ রয়েছে। তাই, ঠুনকো অজুহাতে রোজা না রাখার কোনো অনুমতি দেয় না ইসলাম।

আ ব ম খোরশিদ আলম খান
লেখক : সাংবাদিক, ইসলামী চিন্তাবিদ।

Pial

Read Previous

ভাসানচর যাচ্ছেন দুই হাজার রোহিঙ্গা

Read Next

নাটকীয় জয়ে ফাইনালে বার্সা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *