• জুন ১৬, ২০২১

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জয়ী হবে পুলিশ -আইজিপি

দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এরই মধ্যে আমরা কাজ করছি। দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারে বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো। গতকাল মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। পুলিশে সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার প্রচলনের বিষয় জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আইজিপি বলেন, আমি পাবলিকলি বলি, যারা পুলিশ এসে দুর্নীতি করতে চান তারা চাকরি ছেড়ে দেন। এর চেয়ে স্পষ্ট উচ্চারণ আর কি হতে পারে। অন্য কে কোথায় কী করলো বাংলাদেশের মানুষ সেগুলো বিষয় না। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর কেউ দুর্নীতি করবে এটা বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করে না। দুর্নীতির জন্য পুলিশ বাহিনী না। যারা ভবিষ্যতে পুলিশে আসবেন বলে ভাবছেন, তাদের বলবো, মনে যদি কোনো খারাপ উদ্দেশ্য থাকে তাহলে আমাদের এখানে আসবেন না, অন্য জায়গায় যান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থানা কোনো হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা কেন্দ্র হতে পারে না, এটা আমরা বলতে পারি। থানা হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষা করার জন্য কাজ করবে। যদিও থানা নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তবে আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। অন্য আরেকটি প্রশ্নের জবাবে পুলিশ প্রধান বলেন, সম্প্রতি ভাস্কর্য ইস্যুতে কোনো মহল যদি জলঘোলা করার চেষ্টা করে, আমরা সেটা করতে দেবো না।

সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও বেনজীর আহমেদ বলেন, বহিরাবরণের মতো আচারআচরণেরও পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশকে (সিএমপি) সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার দেয়া হলো। এখন থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের হাতে আর বড় অস্ত্র দেখা যাবে না। পুলিশ ছোট অস্ত্র বহন করবে। এই গিয়ারের মধ্যে থাকছে ট্যাকটিকাল বেল্ট, স্মল আর্মস উইথ থাই হোলস্টার এবং হ্যান্ডস ফ্রি কমিউনিকেশনের ব্যবস্থা। ট্যাকটিকাল বেল্টের সঙ্গে থাই হোলস্টার যুক্ত থাকবে, যার ভেতরে থাকবে ছোট অস্ত্র, এক্সপ্যান্ডেবল ব্যাটন, টর্চ, হ্যান্ডকাফ ও পানির বোতল। ফলে বড় অস্ত্র, ওয়াকিটকি ও লাঠি কোনোটাই পুলিশকে আর হাতে বহন করতে হবে না। এক্সপ্যান্ডেবল ব্যাটন প্রয়োজনে বড়ছোট করা যাবে।

READ  করোনায় মারা গেলেন শামসুজ্জামান খান

তিনি জানান, ক্ষুদ্রাস্ত্র তাদের কাছে মজুত ছিল। এই কাজে তাদের নতুন করে বিশেষ কিছু কেনাকাটা করতে হয়নি। বড় অস্ত্রগুলো প্রয়োজনে পুলিশ ব্যবহার করবে। সেগুলোও সংরক্ষণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, পুলিশের শরীরের সঙ্গে ভিডিও ক্যামেরা লাগানোর একটা উদ্যোগ তারা আগেই নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজটি খুব ব্যয়বহুল। তারপরও তারা পর্যায়ক্রমে ভিডিও ক্যামেরা লাগানোর কাজ শেষ করবেন। প্রথম ধাপে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৭ হাজার সদস্য ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৩ হাজার সদস্যরা এই অপারেশনাল গিয়ার পাবেন। যা পর্যায়ক্রমে সব মেট্রোপলিটনে, জেলা পর্যায়ে এবং গ্রাম পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও এই গিয়ার যুক্ত হবে।

আইজিপি বলেন, উন্নত বিশ্বে রুটিন ডিউটিতে পুলিশ ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেন না। এখন থেকে আমরাও সেই বিষয়টি প্রচলন করতে চাই। প্রথমে ঢাকা ও চট্টগ্রামে থেকে এটি ব্যবহার করবে। এরপর ধাপে ধাপে সবক্ষেত্রে এটির প্রচলন করা হবে।

অপারেশনাল গিয়ার সংযোজনকে পুলিশের হার্ডওয়্যারগত পরিবর্তন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর পাশাপাশি সফটওয়্যারগত পরিবর্তন অর্থাৎ আচরণগত পরিবর্তন জরুরি। আমরা চাই পুলিশের সর্বকনিষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ পদের সদস্যদের আচরণ হবে সর্বোচ্চ অনুকরণীয়। হার্ডওয়্যারগত পরিবর্তন করে প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব না, এজন্য সফটওয়্যারগত পরিবর্তন দরকার। মনেজগতের পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা দ্রুতই নতুন পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মো শফিকুল ইসলাম।

admin

Read Previous

মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হাসান মুরাদ আনাচ

Read Next

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি কি বাড়বে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *