• জুন ১৬, ২০২১

নামাজের ব্যাপারে কুরআনে নির্দেশনা কী?

নামাজ ফরজ ইবাদত। ঈমানের সাক্ষ্য দেয়ার পর মানুষের জন্য প্রথম ও প্রধান ইবাদত এটি। এ ইবাদতের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ হলো- নামাজ সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ মানুষকে তা পড়তে বলেনি বরং একাধিক স্থানে তা প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেছেন।
এ কারণেই নামাজ ইসলামি রাষ্ট্রের প্রধান ৪ মূলনীতির মধ্যে প্রথম হচ্ছে নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তাআলা মানুষকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দানের পর প্রথমেই নামাজ প্রতিষ্ঠা করার কাজ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ

তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামথ্য তথা রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করলে তারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভূক্ত।’ (সুরা হাজ : আয়াত ৪১)
সুতরাং নামাজের ব্যাপারে কুরআনের নির্দেশনা হচ্ছে, রাষ্ট্র ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি তার অধীনস্তদের উপর বাধ্যতামূলকভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠার আইন বাস্তবায়ন করবেন। অর্থাৎ রাষ্ট্র ক্ষমতার অধিকারীদের উপর দায়িত্ব হচ্ছে সমাজে নামাজ প্রতিষ্ঠা করা।

তবে রাষ্ট্রে নামাজ পড়ার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা না থাকলে, এ অজুহাতে কোনো মুমিন মুসলমানের নামাজ থেকে বিরত থাকার সুযোগ নেই। বরং সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বে আল্লাহর নির্দেশ পালনে নামাজ পড়তে হবে।
নামাজ প্রতিষ্ঠার এ দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবে সবাইকে পালন করে যেতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র যার যার অবস্থান থেকে নামাজ প্রতিষ্ঠার কাজ করবে। নামাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে থাকতে হবে সর্বোচ্চ সতর্ক।

নামাজ পড়তে হবে যথা সময়ে এবং শুধুমাত্র মহান আল্লাহর জন্য। কুরআন-সুন্নায় এ ব্যাপারে বিশেষভাবে তাগিদ দেয়া হয়েছে। যারা নামাজে অবহেলা করবে কিংবা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়বে তাদের হবে করুণ পরিণতি। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে বেখবর, যারা তা লোক দেখানোর জন্য আদায় করে।’ (সুরা মাউন : আয়াত ৪-৬)

READ  মাদক থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম

মানুষের মধ্যে এমন অনেকে আছেন, যারা নামাজ পড়েন ঠিকই; কিন্তু তা আদায়ের ব্যাপারে উদাসিন। আবার অনেকে অন্য দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়েন। যাতে মানুষ তাকে নামাজি বলেন। এ ব্যাপারেও থাকবে হবে সতর্ক।
এ আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করা হয়েছে যে-
‘এখানে সেসব মানুষকে বুঝানো হয়েছে, যারা মোটেই নামাজ পড়ে না; অথবা প্রথম দিকে নামাজ পড়তো অতপর তাদের মধ্যে অলসতা দেখা দিয়েছে। অথবা যথাসময়ে নামাজ আদায় করে না বরং যখন মন চায় তখন পড়ে নেয় অথবা দেরি করে আদায় করতে অভ্যাসী হয় অথবা বিনয়-নম্রতার সাথে নামাজ পড়ে না ইত্যাদি।’ (নাউজুবিল্লাহ)

একটা বিষয় লক্ষ্যনীয়
কুরআন এবং হাদিসে নামাজে অমনোযোগীতা ও লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ আদায়কারীদের জন্য শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসের পরিভাষায় লোক দেখানো নামাজ হচ্ছে ‘ছোট শিরক’। এটি কবিরা গোনাহের শামিল। একনিষ্ঠ তাওবা ছাড়া যে গোনাহ ক্ষমা হয় না। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ে সংবাদ দেব না, যে বিষয়টি আমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের (ফেতনার) চেয়েও ভয়ংকর? সাহাবাগণ বললেন, ‘হ্যাঁ’।

তিনি বললেন, ‘তা হচ্ছে গোপন শিরক। (গোপন শিরকের উদাহরণ পেশ করতে গিয়ে বিশ্বনবি বলেন) একজন মানুষ দাঁড়িয়ে শুধু এ জন্যই তার নামাজ খুব সুন্দরভাবে আদায় করে যে- কোনো মানুষ তার নামাজ পড়া দেখছে। (ইবনে মাজাহ)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়লো, তবে সে শিরক করলো; যে ব্যক্তি অন্যকে দেখানোর উদ্দেশ্যে সাদকা করলো সে শিরক করলো।’ (মুসনাদে আহমদ)

সুতরাং ইসলামের প্রধান ইবাদত নামাজের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। যার যার অবস্থান থেকে নামাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করার পাশাপাশি নামাজের ব্যাপারে অবেহলা করা কিংবা লোক দেখানো নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকা একান্ত আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নামাজের ব্যাপারে আরো বেশি মনোযোগী হওয়ার তাওফিক দান করুন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের যার যার অবস্থান থেকে নামাজ প্রতিষ্ঠার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

READ  ইসলামে ক্ষমার অনুপম শিক্ষা

admin

Read Previous

যে ৭ কাজ মানুষকে ধ্বংস করে

Read Next

এক ওয়াক্ত নামাজেই ৯ পুরস্কার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *