• সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

পরকালের মুক্তির জন্য প্রয়োজন মজবুত ঈমান

আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের আদি ও আসল আবাস জান্নাত। মানুষের উপকারের জন্য তামাম জাহানের সব মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখাতে মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়ে বাস্তব প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। পরীক্ষার সব উত্তরপত্র মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন। যারা সেই পথ ও মতের ভিত্তিতে দুনিয়ায় জীবনযাপন করবে এবং মরণকাল পর্যন্ত অতিবাহিত করবে, তারা কবর থেকে শুরু করে হাশর তারপর নিয়ামতভরা জান্নাতে চলে যাবে। থাকবে চিরদিনÑ যার শেষ হবে না। আর যারা শ্রেষ্ঠ মাখলুক হওয়ার পরও নবী-রাসূলদের পথ পরিহার করে শয়তানের পথে জীবনযাপন করবে, তাদের কবর থেকে শুরু করে আজাব আর আজাবে নিপতিত হবে জাহান্নামের অতল গহ্বরে; থাকবে চিরদিনÑ যার শেষ হবে না। শুধুই কষ্ট, আগুন, দেহ পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে, কিন্তু এর শেষ নেই।
আমরা সবাই জান্নাতে যেতে চাই এবং জাহান্নামের ছায়াও মাড়াতে চাই না। তাই আমাদের ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশিত এবং নবী-রাসূলদের প্রদর্শিত মত ও পথে দিন যাপন করে কবরে যেতে চাই। নিয়ামতভরা জান্নাতে যেতে চাই।

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর কাছে শেষ বাণী আল কুরআনের ৩০ পারায় আমাদের পথ চলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নবী মুহাম্মদ সা. বাস্তবে কুরআনের আলোকে আমাদের আল্লাহর পথে ডেকেছেন। আমরা এই ডাকে সাড়া দিয়ে সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করা আমাদের দায়িত্ব।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তারা সৃষ্টির সেরা। Ñআল বাইয়্যেনা :৭। আল্লাহ আরো বলেন, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা জান্নাতবাসী হবে এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। Ñবাকারা : ৮২।

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘মুমিন তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, আর যারা কাফির, তারা তাগুতের পথে লড়াই করে। সুতরাং শয়তানের সাথীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাও। জেনে রেখ, শয়তানের চাল আসলে বড়ই দুর্বল।’ Ñনিসা : ৭৬।

READ  কুরবানি না দিলে কি গোনাহ হবে?

আল্লাহ আরো বলেন, ‘অবশ্যই কল্যাণ হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ঈমান, আখিরাতের প্রতি ঈমান, ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান, আল্লাহ প্রেরিত কিতাবের প্রতি এবং নবী-রাসূলদের প্রতি ঈমান।’ Ñবাকারা : ১৭৭।

এছাড়া গোটা কুরআনে সূরা আ’রাফের ৯৬, আন’আমের ৮২, আলে ইমরানের ৮৪, সূরা হুজুরাতের ১৫, বাকারার ৬২, আল হজের ২৩, বাকারার ২৫৬ এবং ২৮৫, আস সফের ১১নং আয়াতে ঈমানের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। রেফারেন্স হিসেবে উপরোক্ত আয়াতগুলো উল্লেখ করলাম।

এছাড়া নবী মুহাম্মদ সা. বলেন, ‘যে পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে মহান আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মদ সা.-কে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্টি লাভ করেছে, সেই ব্যক্তি ঈমানের প্রকৃত স্বাদ লাভ করেছে।’ নবী সা. আরো বলেন, ‘সবর তথা ধৈর্য ও সহনশীলতা এবং দানশীলতা ও উদারতাই হচ্ছে ঈমান।’ নবী সা. আরো বলেন, ‘তোমাদের মধ্য হতে কেউই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’ Ñবুখারী ও মুসলিম।
আল্লাহর শেষ নবী সা. আরো বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কামনা-বাসনা আমার আনীত দীনের অধীনে করতে না পারবে।’ এভাবে মহান আল্লাহর শেষ নবী বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে ঈমানের গভীর তাৎপর্য বর্ণনা করেছেন।

মজবুত ঈমানের জন্য কুরআন ও হাদিসের আলোকে বর্ণিত মত ও পথে চলেই এর বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে, প্রতি কাজে জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি গভীর ঈমান, রাসূলদের পথ অনুসরণের মধ্যেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নির্ভরশীল।

মজবুত ঈমানের পরিচয় দিতে গিয়ে আমাদের চলার পথে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হবে বা আমরা হচ্ছি। কিন্তু পরকালের চিরস্থায়ী আবাসের জন্য দুনিয়ার বাধা-বিপত্তির মধ্যেও কষ্ট আমলে নেয়া যাবে না। আমাদের দীর্ঘ কর্মজীবনে সত্যকে সত্য বলার অভ্যাসের কারণে দুনিয়াবি অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার উদাহরণ ভূরি ভূরি।

READ  পবিত্র শবেমিরাজে বিশ্বনবীকে বিশেষ সম্মাননা

দুনিয়ার এই সংক্ষিপ্ত সময়ে আমাদের ধৈর্যের সব শাখা-প্রশাখাকে কাজে লাগিয়ে এ জীবন অতিবাহিত করতে হবে। গোটা দুনিয়ার দিকে তাকালে প্রায় ২শত কোটি ঈমানদারের দাবিদার জনসমষ্টি কি আসলেই ঈমানের পরিচয় দিতে পারছি? ইসরাইলের মতো একটি ছোট ইহুদি রাষ্ট্রের কাছে গোটা আরব দেশগুলো নতি স্বীকার করে অসম্মানজনক চুক্তি করছে এবং অন্যদেরও আত্মসমর্পণের আহ্বান করছে।

মাত্র ১৭ জন মর্দে মুমিন, মজবুত ঈমানের সিপাহসালার বীরত্বের সাথে গোটা ভারতবর্ষ দখল করতে কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি এবং তারা প্রায় হাজার বছর গোটা ভারতবর্ষ শাসন করেছিল। যখনই ঈমানের ঘাটতি লক্ষ করা গেছে, দুনিয়াবি স্বার্থ, ভোগ-বিলাস তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, তখনই তাদের মসনদ হারানোর পথ খুলে গেছে, মূর্তিপূজারিরা গর্বের সাথে মুসলমানদের গড়া ভারতবর্ষের স্মৃতিগুলো আনন্দে ভোগ করছে আর আমরা দুর্বল ঈমানের লোকেরা অসম্মানের সাথে তা দেখে চলছি।
মহান আল্লাহর দুনিয়াতে প্রথম ঘর কা’বাঘর আমাদের হাতে রয়েছে। আমাদের মুসলিম দেশগুলোর হাতে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ, আমাদের অবস্থান দুনিয়ার মাঝ বরাবর, পারমাণবিক শক্তিও আমাদের হাতে। এখন শুধুই চাই পাক্কা ঈমান, মজবুত ঈমানী শক্তি, জ্ঞান-গরিমার ক্ষেত্রেও সারা দুনিয়াতে মুসলমানরা কিন্তু অনেক অগ্রসর হয়েছে।

এইতো মাত্র কিছুদিন পূর্বে আজারবাইজান আর্মেনিয়ার সাথে যুদ্ধ করে তাদের হারানো অঞ্চল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, পাশের শক্তিধর ঈমানের বলে বলীয়ান রাষ্ট্র তুরস্কের সার্বিক সহযোগিতায়। এরও কিছুদিন পূর্বে তুরস্কের সোফিয়া মসজিদ পুনরায় মুসলমানদের নামাজের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। সবই মজবুত ঈমানের শক্তি, মহান আল্লাহর রহমত।

এই সময় মুসলিম দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের ঈমানী শক্তিকে পুঁজি করে তাদের সম্পদ, জনশক্তি কাজে লাগিয়ে ঈমান ও একতার বলে বলীয়ান হয় এবং সততার সাথে যোগ্যতার সাথে দুনিয়াকে সুখ-শান্তির নীড় বানানোর পথ বাতলাতে পারি, তাহলে দুনিয়ার মানুষ করোনা মহামারির মধ্যেও মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান, রাসূলের দেখানো পথে রাষ্ট্রক্ষমতা চালানোর পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়ন, যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ করে দেশ-জাতি সবাই মিলে আল্লাহর এ পৃথিবীকে সুখ-শান্তির নীড় বানানোর কাজে এগিয়ে আসতো।

READ  হিংসুকের হিংসাই নিজের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট

আমাদের বিশ্বাসের সাথে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করলেও গত প্রায় ৫ দশক ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে ইরান সকল পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে এদের সার্বভৌমত্বকে অটুট রেখে দেশ চালাচ্ছে। কারও সাথে আপস করেনি। তাই আসুন, ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে মহান আল্লাহর কৃপা ও রহমত নিয়ে আমরা দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে জান্নাতের পথ সুগম করার উদ্যোগ নিই। মহান আল্লাহ আমাদের মুসলিমদের তার ঐতিহ্যকে স্মরণ করে দুনিয়াকে পরিচালনার তাওফিক দিন।

admin

Read Previous

শীতে ত্বকের যত্ন

Read Next

আইসিসির দশকসেরা ওয়ানডে একাদশে সাকিব আল হাসান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *