• সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভের মালিক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত সমুদ্রের কোল ঘেঁষে কমবেশি ১৭০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যা যুক্ত হবে কক্সবাজার বর্তমানে বিদ্যমান ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে।

এই সড়ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও নকশা তৈরির কাজ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমইটি ইন্টারন্যাশনাল। চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও নকশা পেতে এক বছর সময় লাগবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মাণ হলে এটি হবে পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ। যার দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার।কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, এই মেরিন ড্রাইভকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে। মন্ত্রীর সেই বক্তব্যের বেশ কয়েক বছর পর এখন নতুন করে টেকনাফ-মিরসরাই মেরিন ড্রাইভের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।ইতিমধ্যে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের নির্মাণ শেষ করেছে। বছর পাঁচেক আগে এ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও টেকনাফ থেকে মিরসরাই পর্যন্ত অংশে নানা জটিলতার কারণে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করা যায়নি। চলতি বছরে কোভিড-১৯ এর কারণে এ প্রক্রিয়া আরেক দফা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে পেরেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।অস্ট্রেলিয়ার এসএমইটি এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটা প্রাথমিক নকশা দেবে। এটির জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা পাওয়ার পরই জানা যাবে সড়কটি কত কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে মিরসরাই থেকে টেকনাফ পর্যন্ত কমবেশি ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই মেরিন ড্রাইভ। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সরকার ১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।এ সড়ক ঘিরেই মিরসরাই থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠবে ছোট-বড় অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট। স্থানে স্থানে হবে ছোট ছোট সি-বিচ। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের। ঘুরতে আসবেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। তাতেই অর্থনীতির চাকা ঘুরবে দিনে-রাতে।এই মেরিন ড্রাইভ ঘিরে শুধু পর্যটনশিল্প থেকেই বছরে আয় করা সম্ভব হবে হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে কাঁচা পণ্যের ব্যবসা। বিশেষ করে ব্লু ইকোনমি বা সামুদ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে সেটি কাজে লাগানো যেতে পারে এই মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমুদ্র থেকে যে পরিমাণ মৎস্য সম্পদ আহরণ করা হয় সেটি দ্রুততম সময়ে দেশের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে শুধু মেরিন ড্রাইভের কারণে। এখানে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে এই সমুদ্র ঘেঁষা সড়কটি।সওজের কর্মকর্তারা বলছেন, এটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল এলাকায়। এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ। বদলে যাবে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও। ওই অঞ্চলে কমবে বেকারত্ব। নানা রকম কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে।এই মেরিন ড্রাইভ চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল এবং সীতাকুণ্ড উপকূলে প্রস্তাবিত মিনি বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।

READ  অন্যকে দেখে নিজেকে কখনও দুঃখী না ভাবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্থ

admin

Read Previous

হ্যাকার থেকে অনলাইন ব্যবসা নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

Read Next

ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়ানোর কৌশল

২ Comments

  • ভালো খবর। ভালো লাগলো। দ্রুত কাজ শেষ করা হোক

  • very good news. need to complete within the shortest possible time

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *