• জুন ১২, ২০২১

ভাস্কর্য ইস্যুতে ফায়দা লোটার চেষ্টায় সরকার

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ভাস্কর্য ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। এই ইস্যুতে তারাই শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে। তবে আমি আলেম সমাজ ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে বলব, আপনারা এ বিষয়টিকে নিয়ে আলোচনায় বসুন। সব পক্ষকেই সহনশীল অবস্থানে থাকা জরুরি।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ কথা বলেন। জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের আলেম সমাজের একটি ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো ভাস্কর্যকে মূর্তির সঙ্গে তুলনা করে মতামত দিয়েছেন। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে এটা তারা বলছেন। আমরা এই বিশ্বাসের প্রতি সম্মান রেখেই বলব, ভাস্কর্য দুনিয়াব্যাপী শিল্পমাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে এর অনেক ঐতিহ্য আছে।

বাংলাদেশে অনেক ইসলামী প-িতের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্ন মত আছে। ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখব, সহনশীলতার একটি নজির আছে। আলেম সমাজকে বলব, আপনারা আপনাদের বিশ্বাস নিয়ে চলবেন। ভাস্কর্যকে যারা শিল্পমাধ্যম হিসেবে মনে করে, তাদের বিশ্বাস বা স্বাধীনতাকে সম্মান জানাবেন। দেশে সহনশীলতার একটি পরিবেশ বজায় রাখতে মূল্যবান ভূমিকা রাখবেন। ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা বা নিজস্ব মত চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার কেউ রাখেন না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দিক থেকে যদি আমরা এটাকে দেখি, তাহলে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনই বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই ফ্যাসিবাদী শাসনে চুরি, দুর্নীতি, লুণ্ঠন, ভয়াবহতা রূপ নিয়েছে। জবাবদিহিতার ন্যূনতম কোনো জায়গা নেই। গুম, খুন পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু এবং বিচারভহির্ভূত হত্যা চরম আকার ধারণ করেছে। ক্ষমতার বেপরোয়া দাপট চলছে। এখন মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। করোনা পরিস্থিতিও ভয়াবহ লুটপাট ও দুর্নীতি চলছে। স্বাস্থ্য খাত ও শিক্ষা খাত ভেঙে পড়েছে।

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, সরকারের এমন আচরণের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাড়ছে। সরকার করোনাকালেও পাট শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করেছে। এখন চিনি কল বন্ধ করার পাঁয়তারা করছে। প্রবাসী, গার্মেন্ট শ্রমিক ও কৃষকরা বিপদে আছেন। এই পরিস্থিতিতে ভোটাধিকারসহ নানা অধিকার নিয়ে গণআন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সরকার লুটপাটের শাসন জারি করতে গিয়ে দলের অভ্যন্তরেও সংকটের মুখে। এই সরকার বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমরা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আছি।

READ  হেফাজতের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা নায়েবে আমির আউয়ালের

জোনায়েদ সাকি বলেন, এখন গণআন্দোলনে ভীত হয়ে সরকার রাজনৈতিকভাবে চাচ্ছে দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে নিতে। ভাস্কর্য ইস্যুতে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অর্থ, সরকার রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন দুর্বল হবে। এ ইস্যু থেকে সরকার রাজনৈতিক মেরুকরণ করতে চাইছে। এখানে সরকারই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। গণতন্ত্র না থাকলে ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিসহ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে। উগ্রবাদ সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হবে। এর গতিমুখ বদলানোর একটাই রাস্তা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা আমরা করছি। আমরা অবিলম্বে এই সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি। একটি নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে ভোট দিতে হবে। তারা সবার ভোটের আয়োজন করবেন। আমাদের এখন রাজনৈতিক সামাজিক চুক্তিতে যেতে হবে। আগামী তিনটি নির্বাচন কীভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

admin

Read Previous

মামুনুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

Read Next

কৌতূহলের কেন্দ্রে ভাসানচর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *