• জুলাই ৩০, ২০২১

যে তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না

‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না। তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। …তারা হলো—ক. যে ব্যক্তি পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে; খ. যে ব্যক্তি উপকার করার পর খোঁটা দেয় এবং গ. যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালায়।’ মুসলিম, হাদিস : ১০৬

মানুষের উপকার করার প্রবণতা একটি মহৎ গুণ। যারা অন্যের উপকার করে হাদিসের ভাষায় তাদের শ্রেষ্ঠ মানুষ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল মুজামতুল আউসাত, হাদিস : ৫৭৮৭)

এই কাজের পুরস্কারও অনেক বড়। দুনিয়াতে মানুষের সংকট দূর করার পুরস্কারস্বরূপ মহান আল্লাহ সে উপকারকারীর আখিরাতের সংকটগুলো দূর করে দেবেন। যেখানে হাজার দুনিয়ার বিনিময়ের বিনিময়েও একটি নেকি কেনা যাবে না। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সংকটগুলো থেকে একটি সংকট মোচন করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি সংকট মোচন করবেন।

যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬৯৯)

অন্যের সাহায্যে এগিয়ে এলে এভাবেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের সম্মানিত করেন। তবে শর্ত হলো, এ ধরনের কাজে অবশ্যই পূর্ণ ইখলাস থাকতে হবে। ইখলাস ছাড়া কোনো আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা নিজ সম্পদ আল্লাহর পথে ব্যয় করে, আর ব্যয় করার পর খোঁটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তারা নিজ প্রতিপালকের কাছে তাদের প্রতিদান পাবে। তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৬২)

READ  কোরআন পাঠের পাঁচ মোবাইল অ্যাপ

কারো উপকার করে তাকে খোঁটা দেওয়া এবং তাকে ছোট করার লক্ষ্যে অন্যের কাছে তা প্রচার করে বেড়ানো ইখলাসবিরোধী কাজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-সদকাকে সেই ব্যক্তির মতো নষ্ট কোরো না, যে নিজের সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে দেখানোর জন্য এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না।

সুতরাং তার দৃষ্টান্ত এ রকম, যেমন এক মসৃণ পাথরের ওপর মাটি জমে আছে, অতঃপর তাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ে ও তা সেই মাটি ধুয়ে নিয়ে যায় এবং সেটিকে আবার মসৃণ পাথর বানিয়ে দেয়। এরূপ লোক যা উপার্জন করে, তার কিছুমাত্র তারা হস্তগত করতে পারে না। আর আল্লাহ এরূপ কাফিরদের হিদায়াত দান করেন না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৪)

খোঁটা দেওয়ার কারণে আল্লাহর ক্রোধের সম্মুখীন হতে হবে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিন ব্যক্তি এমন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা যাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাদের পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।

আবু যর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এ কথাটি তিন-তিনবার বললেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা, তারা তো সর্বস্বান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল? তিনি বলেন, (ক) যে ব্যক্তি পরিধেয় কাপড় টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে রাখে; (খ) যে ব্যক্তি উপকার করার পর খোঁটা দেয় এবং (গ) যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য চালায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৬)

admin

Read Previous

আপনার সন্তানকে এই ৫টি বিষয়ে শিক্ষা দিন

Read Next

সুদ ও মুনাফার পার্থক্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *