• জুন ১৬, ২০২১

শীতে ত্বকের যত্ন

শীতে আর্দ্রতার অভাবে ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ। তাই ত্বক মলিন এবং অনুজ্জ্বল দেখায়। যাদের ত্বক আগে থেকেই শুষ্ক প্রকৃতির, তাদের সমস্যা শীতকালে আরও বেড়ে যায়। হাত-পা এমনকি মুখের চামড়া উঠতে থাকা, ত্বক ফেটে রক্ত বের হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই শীতের শুরু থেকেই ত্বক নিয়ে সচেতন থাকা দরকার।

অনেক সময় শীতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে চুলকানি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন প্রভৃতি হয়ে থাকে। মাথার ত্বকে খুশকির উপদ্রব এবং চুলকানিও বেড়ে যায়। অনেক সময় এই খুশকি চোখের পাপড়ি, ভ্রু, পুরুষদের দাড়িতেও ছড়িয়ে যায়। একটা সময় লোমকূপ বন্ধ করে ছোট ছোট দানা বা ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে। এ ছাড়া সোরিয়াসিস রোগের প্রকোপ শীতকালে বৃদ্ধি পায়। এ অসুখে হাঁটু, কনুই, মাথার ত্বক থেকে মাছের আঁশের মতো চামড়া উঠতে থাকে। ৩ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এবং কখনো কখনো বড়দের মধ্যে অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিস নামে ত্বকের রুক্ষতাজনিত সমস্যা দেখা যায়। যাদের এই সমস্যা থাকে, শীতকালে তাদের ত্বক আরও শুকিয়ে চুলকানি বেড়ে যায়। যেসব শিশুর অ্যাজমা থাকে, তাদের এটি বেশি হয় এবং এদের ত্বকে সংক্রমণও বেশি হয়। উলের কাপড়, পুরোনো লেপ থেকেও ত্বকে ও শরীরে অ্যালার্জি বেড়ে যায়।

যেহেতু বেশির ভাগ সমস্যাই শুষ্কতার কারণে বৃদ্ধি পায়, তাই শুষ্কতা এড়িয়ে চলতে হবে। অর্থাৎ ত্বকের ধরন বুঝে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। হায়ালুরনিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করা ভালো।প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
গোসলের আগে ত্বকে নারকেল বা জলপাই তেল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এতে ত্বক নরম থাকে, পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়

অনেকেই ঠান্ডার কারণে প্রতিদিন গোসল করতে চান না বা করেন না। এটা ঠিক নয়। ত্বক অপরিষ্কার থাকলে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই কুসুমগরম পানি ব্যবহার করে গোসল করতে হবে। একান্তই না পারলে ত্বক তোয়ালে ভিজিয়ে মুছে নিতে হবে। গোসলের পরপর আধভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো।
অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকে ব্যবহার করা যাবে না। এতে রুক্ষতা বৃদ্ধি পায়। হালকা কুসুম-গরম পানি ব্যবহার করুন।

READ  বিজ্ঞানী নিউটনের জীবনের কিছু মজার ঘটনা

খুশকির সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিয়মমাফিক কিটোকোনাজল শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।মাথায় খুশকি হলে তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে খুশকি কমে যায়।

শীতকালে অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না। ত্বককে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচাতে এই সময়ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। বাইরে গেলে রোদচশমা, টুপি ব্যবহার করতে পারেন।

পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধ করতে পায়ে নিয়মিত ভেসলিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

যাদের সোরিয়াসিস, অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিস, বংশগত অ্যাজমা এবং অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের শীতের শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিয়মমতো চলতে হবে।

admin

Read Previous

এক ওয়াক্ত নামাজেই ৯ পুরস্কার

Read Next

পরকালের মুক্তির জন্য প্রয়োজন মজবুত ঈমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *