• সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১

জীবজন্তুর প্রতি রসুলুল্লাহর ভালোবাসা

জীবজন্তু সবই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহ যেমন মানুষ ও জিন তৈরি করেছেন তেমন জীবজন্তুও তাঁর তৈরি। রসুল (সা.) শুধু মানব জাতির প্রতি দয়ালু ছিলেন না, তিনি দয়ালু ও দয়াবান ছিলেন বিশ্বব্যাপী মাখলুকাতের প্রতিও। যারা নিজেদের দুঃখ-কষ্টের কথা মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে অন্যের কাছে ব্যক্ত করতে পারে না সেসব বাকহীন জীবজন্তু ও পশু-পাখির দুঃখে রসুল (সা.)-এর প্রাণ আকুল হতো।

আসলে তিনি রহমাতুল্লিল আলামিন বা বিশ্ব জগতের জন্য রহমতস্বরূপ। প্রাণিজগতের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করতে হবে সে সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল জাহেলি যুগের মানুষ। তারা পশুর সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করত। রসুল (সা.) মদিনায় তাশরিফ নেওয়ার আগে সেখানকার লোকজন জীবিত উটের কুঁজ ও দুম্বার পেছনের বাড়তি গোশত কেটে খেত। রসুল (সা.) জীবন্ত পশুর প্রতি এরূপ জাহেলি আচরণ নিষেধ করলেন। যে জন্তুকে সওয়ারের জন্য ব্যবহার করা হয় সে জন্তুর ওপর লাগাম বা জিন বেঁধে কষ্ট দিতে এবং হয়রানি করতে নিষেধ করলেন।

তিনি একটি উটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লক্ষ্য করেন ক্ষুধার তাড়নায় উটটির পিঠ পেটের সঙ্গে মিশে গেছে। এ দৃশ্য দেখে রসুল (সা.) বললেন, তোমরা এসব বাকশক্তিহীন পশুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। যখন এরা সুস্থ সক্ষম থাকে তখন এদের ওপর আরোহণ কর, যখন ক্লান্ত হয় এদের ছেড়ে দাও। রসুল (সা.) বলেন, তোমার ঘোড়ার কপালের পশম, ঘাড়ের পশম ও লেজের পশম কাটবে না।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক আনসারির বাগানে প্রবেশ করলে সেখানে অবস্থানরত একটি উট তাঁকে দেখে কাঁদতে লাগল। রসুল (সা.) তার কাঁধ ও মাথার পেছনের অংশ হাত বুলিয়ে দেওয়ার পর কান্না বন্ধ হয়ে যায়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন উটটি কার? আনসার যুবকটি জানালেন তার। রসুল (সা.) বললেন, আল্লাহ এ পশুর মালিক তোমাকে বানিয়েছেন অথচ তুমি কি এ ব্যাপারে তাঁকে ভয় কর না? এ উট তোমার বিরুদ্ধে আমার কাছে নালিশ দিয়েছে তুমি তাকে ক্ষুধার্ত রাখ এবং তাকে দিয়ে বেশি বোঝা বহন করাও, কিন্তু তাকে চাহিদা মোতাবেক খাবার দাও না। (আবু দাউদ)।

READ  নারীরা কি বিয়ে প্রস্তাব দিতে পারবে?

জীবজন্তুকে কষ্ট দেওয়া ও হয়রানি করা যাবে না। মনের শখ বা ফুর্তির জন্য অন্যায়ভাবে জীবজন্তু ও পশুপাখি অযথা হত্যা করাকে ইসলাম কঠিনভাবে নিষেধ করেছে। প্রাণীকে অন্যায়ভাবে আহত করা যাবে না। একদা রসুল (সা.)-এর পাশ দিয়ে একটি গাধা গমনকালে তিনি দেখতে পেলেন তার মুখমণ্ডলে জ্বলন্ত লোহা দিয়ে দাগ দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি বলেন, সেই ব্যক্তির ওপর লানত যে তার মুখে দাগ দিয়েছে।

কারণ পশুর মুখে দাগ দিলে আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃতি ঘটে। রসুল (সা.) ব্যাঙ বধ করতেও নিষেধ করেছেন। পিঁপড়াকে পুড়িয়ে হত্যা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, আগুন দিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া কেবল রব ছাড়া আর কারও জন্য সংগত নয়। (আবু দাউদ, তিরমিজি)।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

admin

Read Previous

হিংসুকের হিংসাই নিজের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট

Read Next

সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠের ফজিলত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *