• সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১

পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে ইসলামের দিকনির্দেশনা

নারী-পুরুষের বিবাহ বন্ধন থেকেই পরিবারের উৎপত্তি। মানুষের এ পরিবার ও পারিবারিক জীবন হচ্ছে সমাজ জীবনের মূলভিত্তি। পারিবারিক জীবনে ভরণ-পোষণ ও ব্যয় নির্বাহ নিয়ে সমাজে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-ছেলে কিংবা মেয়ে, ভাই-বোনের মধ্যে কলহ দেখা যায়। কিন্তু পরিবারের জন্য ব্যয় বা পারিবারিক ভরণ-পোষণে ব্যয় করা কি বাধ্যতামূলক? ইসলামের দিকনির্দেশনাই বা কী?

হ্যাঁ, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন কিংবা পরিবারের ব্যয়ভার বহন, ভরণ-পোষণ দেয়া বাধ্যতামূল। ইসলামে পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করা ওয়াজিব। দুনিয়া ও পরকালের সব বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি যত্ন নিতে কিংবা অন্যায় থেকে ফিরিয়ে রাখতে কুরআন সুন্নায় সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেরা বাঁচ এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর। সেই অগ্নি থেকে যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর। যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)

দুনিয়ায় পরিবারের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনের জন্যই মহান আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাজিল করেছেন। এর মধ্যে দুনিয়া ও পরকালের সব দায়িত্ব পালনের বিষয়ই জড়িত। আর দুনিয়ার সব কাজই পরকালের জন্য উত্তম পাথেয়। হাদিসের বর্ণনায় পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো ওঠে এসেছে। হাদিসে এসেছে-

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘উত্তম সাদকা হলো যা দান করার পর মানুষ অমুখাপেক্ষী থাকে। নিচের হাত থেকে উপরের হাত উত্তম। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে আছে তাদের আগে দাও। (কেননা) স্ত্রী বলবে, হয় আমাকে খাবার দাও, নতুবা তালাক্ব দাও। গোলাম বলবে, খাবার দাও এবং কাজ করাও। ছেলে বলবে আমাকে খাবার দাও। আমাকে তুমি কার কাছে ছেড়ে যাচ্ছ? লোকেরা জিজ্ঞাস করল হে আবু হুরায়রা! আপনি কি এ হাদিস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন? তিনি উত্তরে বলবেন, এটি আবু হুরায়রার থলে থেকে (পাওয়া) নয়, (বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে)। (বুখারি)

READ  যেসব ক্লান্তি ও হতাশায় গোনাহ মাফ হয়

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, উত্তম দান তা-ই যা দিয়ে মানুষ অভাবমুক্ত থাকে। যাদের ভরণ-পোষণ তোমার দায়িত্বে তাদের থেকে শুরু কর। (বুখারি)

সুতরাং হাদিসের দিকনির্দেশনা হলো-
– প্রথমেই পরিবার পরিজনের চাহিদা মেটানো। যাতে তারা সব সময় অভাবমুক্ত থাকে। যা পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব।

– মৃত্যুর সময় ওয়ারিশদেরকে স্বচ্চল অবস্থায় রেখে যাওয়া। যাতে করে অভিভাবকের মৃত্যুর পর কারো মুখাপেক্ষী হতে না হয়।

– প্রত্যেক দানই সাদকার ছাওয়াব লাভ হয়। সুতরাং সাদকা তথা দান-অনুদান প্রদান করা সুন্নাত।

– সর্বোত্তম দান হচ্ছে, যে পরিমান সম্পদ দান করলে মানুষ অভাবমুক্ত হয়। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হয়।

বিশেষে করে এমনভাবে পরিবারকে রেখে যাওয়া, যদি পরিবারের প্রত্যেক সদস্য দুনিয়ায় যেমন থাকবে স্বচ্ছল তেমনি পরকালের জবাবদিহীতায়ও থাকবে স্বচ্ছ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের নির্দেশনা ও হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। পারিবারের প্রতি দুনিয়া ও পরকালের হক যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

admin

Read Previous

অসুস্থতা বেড়ে গেলে যে দোয়া পড়বেন

Read Next

হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক যেসব খাবার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *