• জুন ১০, ২০২১

মানুষের ওপর পরিবেশ ও সঙ্গীর প্রভাব

আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মিসক (সুগন্ধি) বিক্রেতা ও কামারের হাপরের মতো। আতর বিক্রেতাদের থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসবে না। হয় তুমি আতর খরিদ করবে, না হয় তার সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের হাপর হয় তোমার ঘর অথবা তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২১০১)

আল্লামা রাগিব ইস্পাহানি (রহ.) বলেন, ‘মানুষের জন্য সৎসঙ্গ অনুসরণ করা আবশ্যক। ভালো মানুষের সঙ্গে থাকা আবশ্যক। কেননা ভালো মানুষের সঙ্গ মন্দ মানুষকে ভালো মানুষে পরিণত করে। যেমনিভাবে মন্দ মানুষের সঙ্গ ভালোকে মন্দে পরিণত করে।’ (আজ-জারিয়াতু ইলা মাকারিমিশ শারিয়াহ, পৃষ্ঠা ২৫৫-২৫৬)

বুজুর্গ আলেমরা বলেন, ভালো মানুষের সঙ্গ লাভ করা মানুষের জন্য কল্যাণকর। কেননা আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের সঙ্গে থাকা মানুষদের বঞ্চিত করেন না। যেমন আল্লাহ আসহাবে কাহাফের সঙ্গে তাদের কুকুরের কথাও কোরআনে উল্লেখ করেছেন।

অপরের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হওয়ায় উঠতি বয়সী সন্তানদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আমিরুল মুমিনিন আলী (রা.) বলেন, ‘মন্দ মানুষের সঙ্গে থেকো না। তাহলে সে তার মন্দ কাজ তোমার কাছে ভালো হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করবে এবং সে চাইবে তুমিও যেন তার মতো হয়ে যাও।’ আর এমনটিই সাধারণত হতে দেখা যায়। মন্দরা অসৎ পথই দেখায়। সুতরাং কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার আগে হিসাব করে দেখতে হবে তার সঙ্গ আল্লাহর স্মরণ ও ভালো কাজের আগ্রহ বাড়ায় কি না? সাথি-সঙ্গী ও পরিবেশ শুধু মানুষের কথা ও কাজকে

প্রভাবিত করে না, বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, মন ও মস্তিষ্কও তার দ্বারা প্রভাবিত হয়। একজন হাসিমুখ ও সুখী মানুষের পাশে বসলে একজন দুঃখী মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। আর দুঃখী মানুষকে দেখলে সুখী মানুষেরও মন খারাপ হয়ে যায়। কবি বলেন, ‘একজন ব্যথিত মানুষ পুরো বৈঠককে ব্যথিত করে তোলে।’

READ  সময়মতো বিয়ে নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী যা বলেন

শুধু মানুষই পরিবেশ ও সঙ্গীর দ্বারা প্রভাবিত হয় না, বরং পশু-পাখি ও তৃণলতা পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। অভিজ্ঞতা বলে, শক্তিশালী উট দুর্বল উটের সঙ্গে থাকলে সাহস হারিয়ে ফেলে। শুকনা গাছের পাশে থাকলে সজীব গাছও শুকিয়ে যায়। সবাই জানে, মৃত দেহের প্রভাবে পানি ও বাতাসে দুর্গন্ধ হয়। এসব জিনিস যদি সংসর্গ দ্বারা প্রভাবিত হয়, তবে মানুষ—যার অনুভূতি শক্তি সবচেয়ে প্রখর ও প্রবল সে কেন প্রভাবিত হবে না? সুতরাং চরিত্র রক্ষার জন্য ভালো মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা এবং মন্দ মানুষ থেকে দূরে থাকা তেমনি প্রয়োজনীয়, যেমন দেহের জন্য তাজা ও উত্তম খাবার প্রয়োজনীয়, প্রয়োজন ভালো পরিবেশে বেঁচে থাকা।

বর্তমানে আমরা যে পরিবেশে বেঁচে আছি তাতে নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা, অশ্লীল নাচ-গান, নোংরা সিনেমা, অরুচিকর সাহিত্য মানুষের মনুষ্যত্ব, বিবেক ও শালীনতা বোধকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আগামী প্রজন্মের ছোট ছোট শিশু পর্যন্ত তার মন্দ প্রভাব থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। তাদের ভবিষ্যৎ কতটা অন্ধকার আমরা হয়তো ভাবতেও পারছি না। আমাদের দায়িত্ব আগামী প্রজন্মকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পারিবারিক দীক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তাদের রক্ষার চেষ্টা করা। বরং শিশুদের রোগব্যাধি থেকে রক্ষার জন্য যতটা চেষ্টা করা হয়,

নোংরা পরিবেশ থেকে রক্ষার চেষ্টাটা আরো জোরালো হওয়া প্রয়োজন। মোবাইল ফোন ও আধুনিক প্রযুক্তি তরুণদের আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এখন থেকে যদি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা না যায়, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য অনৈতিকতা ও ধর্মহীনতার ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। তাদের জীবন, মেধা, মনন, ঈমান ও ইসলাম রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা ও উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।

সমাজ ও পরিবেশের অন্যায় প্রবণতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে তাদের অসৎসঙ্গ ও অন্যায় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা, প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের উপকারী ব্যবহার নিশ্চিত করা, অশ্লীলতা ও অশালীনতা থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। বিপরীতে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা, বুজুর্গ ব্যক্তিদের সংস্রব ও তাঁদের বৈঠকে উপস্থিত করা যেতে পারে।

READ  শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো ইমানি দায়িত্ব

তামিরে হায়াত থেকে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

Pial

Read Previous

রমজানে কতটা পরিবর্তন এলো জীবনে

Read Next

হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ মুছে ফেলার নতুন ফিচার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *