• জুন ২৫, ২০২১

মামলা নিয়ে ভোগান্তি কমছে চট্টগ্রামে, সব তথ্য মিলবে মোবাইলে

সাধারণত থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি করার পর সে সম্পর্কিত তথ্য পেতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয় বাদীকে। অনেক সময় মামলা পরবর্তী ফলাফল জানার জন্য নানা ভোগান্তিও পোহাতে হয় সেবাপ্রত্যাশীদের। থানায় সেবাপ্রত্যাশীদের এই ভোগান্তি কমাতে এসএমএসভিত্তিক তথ্য সেবা চালু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
উদ্যোগটির নাম দেয়া হয়েছে ‘বন্ধন’। সিএমপির নিজস্ব সার্ভারে তৈরি বিশেষ একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ সেবা পাবেন নগরবাসী। বন্দর নগরীর ১৬টি থানার যে কোনো এলাকায় কোনো ব্যক্তি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলার সঙ্গে সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে মামলা বা জিডির নম্বর, মামলার ধারা, তদন্ত কর্মকর্তার নাম এবং যোগাযোগের নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএসের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।

সফটওয়্যারে তথ্য ইনপুট দিলেই সেই তথ্য চলে যাবে সেবাগ্রহীতা ও তদন্তকারী কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে
একইসঙ্গে মামলার সব তথ্য ও বাদীর যোগাযোগ নম্বর চলে যাবে তদন্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে। পরে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা পরস্পর যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, কোনো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও একইভাবে এসএমএসের মাধ্যমে বাদী এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার বিষয়ে অবহিত করা হবে।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষে গৃহীত ব্যবস্থার বিবরণ যেমন—চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্টের মতো তথ্যগুলোও বাদী পেয়ে যাবেন এসএমএসের মাধ্যমে।
মামলার অগ্রগতি ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সব তথ্য সুপারভিশন করতে পারবেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘জনগণের প্রথম সেবা দেয়ার জায়গা হচ্ছে পুলিশ স্টেশন। সাধারণত দুটি কাজ অর্থাৎ মামলা বা জিডি করতে মানুষ থানায় আসে। আমরা বাদীর সঙ্গে থানার এই সম্পর্ককে ডিজিটালাইজড করতে যাচ্ছি। আমরা একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করেছি, যার নাম ‘বন্ধন’। যিনি জিডি বা মামলা করবেন, এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে তার কাছে একটি এসএমএস পাঠানো হবে। যেখানে মামলার নম্বর, তারিখ, ধারা, তদন্ত কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর থাকবে।’

READ  ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সম্পত্তি হারাচ্ছেন ১৩ শতাংশ অভিবাসী

‘পাশাপাশি আমাদের থানা পর্যায়ে যে সুপারভিশনের চ্যানেল আছে, সে চ্যানেলে যেসব কর্মকর্তা সংযুক্ত থাকবেন (ওসি, ওসি তদন্ত, জোনাল এসি বা জোনাল এডিসি-ডিসি) তারাও এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে মামলার আপডেট সম্পর্কে জানতে পারবেন। জোনাল এডিসি বা ডিসিরা নিজেদের অফিস থেকে মামলার বিষয়ে তদন্ত করতে পারবেন। আমাদের অভ্যন্তরীণ সুপারভিশনের কাজটিও অনলাইনে করা যাবে।’
বন্ধন সফটওয়্যার সম্পর্কে বলছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর
সিএমপির এই প্রকল্পটি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম নগরীর ১৬টি থানায় চালু হবে। তবে ১৫ দিন ধরে কোতোয়ালী থানায় পাইলট প্রকল্প আকারে পরিচালিত হচ্ছে।
এসএমএস-ভিত্তিক এ তথ্য সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের সিএমপি কমিশনার জনবান্ধব পুলিশিংয়ের জন্য একটি নতুন কাজ শুরু করেছেন। যখনই মামলা বা জিডি হবে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা থানা থেকে বন্ধন নামের এই সফটওয়্যারে তথ্যগুলো ইনপুট দেব। ইনপুট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগকারী একটি মেসেজ পাবেন, সেখানে মামলার নম্বরসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। একইসঙ্গে আমরা যারা মনিটরিং করি অর্থাৎ ওসি থেকে ডিসি পর্যন্ত বিষয়টা জানবেন।’

জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন
সফটওয়্যারের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাকে মনিটর করা যাবে জানিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘তদন্তভার পাওয়া কর্মকর্তার তথ্য আমাদের সার্ভারে থাকবে। সেখানে মামলার তদন্ত শেষ করার টাইম পিরিয়ডও উল্লেখ থাকবে। আমরা টাইম টু টাইম দেখতে পারব তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) যথাসময়ে কাজটা শেষ করেছেন কি-না। যুক্তিসঙ্গত প্রয়োজনে তদন্তের সময় বাড়ানো হতে পারে। মামলার তদন্ত শেষ হলে বাদীর কাছে আবারও একটি মেসেজ যাবে, তখন বাদী তার মামলার চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট সম্পর্কে জানতে পারবেন।’
এ উদ্যোগ পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াবে জানিয়ে ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘যদিও আগামী ১ তারিখ এই প্রকল্পটি চট্টগ্রামে চালু হচ্ছে, কিন্তু পাইলট প্রকল্প হিসেবে আমরা গত ১৫ দিন এই সেবা দিয়ে আসছি। এতে সুবিধা হচ্ছে আমার তদন্তকারী কর্মকর্তা অনেক সময় বিভিন্ন ডিউটিতে ব্যস্ত থাকেন। অনেক সময় আইও (তদন্তকারী অফিসার) মামলার বিষয়ে জানতে দেরি করে ফেলেন। কিন্তু এখন তাৎক্ষণিকভাবে তিনি তার নামে বরাদ্দ হওয়া মামলার বিষয়টি জানতে পারছেন। সেক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপটা নিতে সুবিধা হবে। এতে করে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে; আমাদেরও কাজের গতি বাড়বে।’

READ  নিঃস্ব হয়ে প্রবাসীদের ফেরা থামছে না

নগরের কোতোয়ালি থানায় পাইলট প্রকল্প আকারে পরিচালিত হচ্ছে এসএমএসভিত্তিক তথ্যসেবা ‘বন্ধন’
নগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই সফটওয়্যার শুধু যে বাদী বা সেবাগ্রহীতাকে সহায়তা করবে তা নয়। এটি পুলিশের পেশাদারিত্বের জায়গাটিকে আরও উন্নত করবে। মামলা যখন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অর্পণ করা হবে, তখন সঙ্গে সঙ্গে এই তথ্যটি তার ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। আমরা যারা সুপারভিশনের দায়িত্বে থাকব তারা কম্পিউটারে বসেই মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারব। এমন কিছু মামলা আছে যেসব মামলার তদন্ত শেষ করার জন্য আইনে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া আছে। কোনো কারণে তদন্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময়ে মামলার তদন্ত শেষ করতে না পারলে সময় শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে তার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস চলে যাবে, তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হবে আপনার মামলার তদন্তকালীন সময় শেষ হচ্ছে।’

সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের র‍্যাংকিংয়ের সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন কোনো তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময়ে মামলার তদন্ত শেষ করতে পারবেন না, তখন তার নামের পাশে একটি লাল সাইন যুক্ত হবে; যা সুপারভিশন কর্মকর্তা সফটওয়্যারে প্রবেশ করলেই দেখতে পাবেন। এভাবে কার নামের পাশে কয়টি লাল সাইন যুক্ত হচ্ছে, সে হিসেবে কর্মকর্তাদের র‍্যাংকিংয়ের সুযোগ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে থাকবে। প্রয়োজনে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনও করা যাবে।’

admin

Read Previous

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

Read Next

খাবার অপচয়রোধে করণীয় ও বরকতের দোয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *